ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এক নজরে যশোর জেলা Logo বান্দরবানে তৈরি হচ্ছে ভোজ্য তেল তুলার বীজ থেকে Logo আবেদন অনলাইনে, চাকরি দিচ্ছে মেঘনা গ্রুপ Logo বিষাক্ত সাপ কামড়ালে করণীয় কী, বিষাক্ত সাপ চিনবেন কীভাবে, জানালেন চিকিৎসক Logo যানজটে পড়লে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo ব্ল্যাকমেইল করে চলতো দেহব্যবসা, অনলাইনে শত শত তরুণীর অশ্লীল বিজ্ঞাপন Logo কতটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ Logo বিএনপির ছয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানাল আ.লীগ ফখরুলসহ Logo সেই শিক্ষকের স্ত্রী মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায় পেনশন আটকে থাকাই Logo সুগন্ধি ব্যবহারের বিষয়ে হাদিসে যা এসেছে-জুমার দিনে

সেই শিক্ষকের স্ত্রী মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায় পেনশন আটকে থাকাই

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪ ১৮ বার পড়া হয়েছে

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি

অবশেষে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী তোহরা খাতুন

নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী তোহরা খাতুন অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।

তোহরা খাতুনের মৃত্যু

বুধবার, ১২ জুন সকাল ১০টার দিকে গুরুতর অসুস্থ হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় তোহরা খাতুনকে। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নজরুল ইসলাম নিজেই স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অবসরের পর জীবনের সংকট

শিক্ষক নজরুল ইসলাম যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। এমপিওভুক্ত খানপুর দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩৫ বছর কাজ করেছেন তিনি। চার বছর আগে অবসর নেওয়ার পর থেকে পেনশনের টাকা পাননি তিনি। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাবে তাকে বারবার বাংলাদেশের শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) যেতে হয়েছে।

স্ত্রী ও মেয়ের চিকিৎসা সংকট

নজরুল ইসলামের অর্ধপাকা টিনের ঘরে স্ত্রী তোহরা খাতুন ও মেয়ে রুমা খাতুন শয্যাশায়ী ছিলেন। স্ত্রী তোহরা ছয় মাস ধরে শরীরের মাংস পচন রোগে ভুগছিলেন, আর মেয়ে রুমা মানসিক ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার খরচ যোগাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোটাছুটি করতে হয়েছে নজরুলকে। পেনশনের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীর চিকিৎসা বন্ধ ছিল।

সহযোগিতার আশ্বাস, কিন্তু কার্যকর না হওয়া

বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খানপুর দাখিল মাদরাসার সভাপতি মো. সবদুল হোসেন খান নজরুল ইসলামের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান। যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন জানান, মাদরাসার বিষয়গুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেখাশোনা করেন। বাঘারপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিষয়টি নিয়ে তাদের কিছুই করার নেই। ঢাকায় কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করতে হবে।

নজরুল ইসলামের বর্ণনা

১৯৮২ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন নজরুল ইসলাম। ২০২০ সালের ২১ জুন অবসর গ্রহণ করেন তিনি। কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পেলেও পেনশনের টাকা আজও পাননি। অর্থের অভাবে স্ত্রী ও মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ ছিল। তিন হাজার টাকা বেতনে এনজিওতে চাকরি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। ঢাকায় যাওয়ার অর্থও তার নেই।

আকুতি ও সহায়তার অনুরোধ

নজরুল ইসলাম সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি জানান, তার অনেক ছাত্র ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হলেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের জীবন দশার কথা বললেও কেউ সহযোগিতা করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

Categories

সেই শিক্ষকের স্ত্রী মারা গেলেন বিনা চিকিৎসায় পেনশন আটকে থাকাই

আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

অবশেষে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী তোহরা খাতুন

নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের শিক্ষক নজরুল ইসলামের স্ত্রী তোহরা খাতুন অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।

তোহরা খাতুনের মৃত্যু

বুধবার, ১২ জুন সকাল ১০টার দিকে গুরুতর অসুস্থ হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় তোহরা খাতুনকে। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নজরুল ইসলাম নিজেই স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অবসরের পর জীবনের সংকট

শিক্ষক নজরুল ইসলাম যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। এমপিওভুক্ত খানপুর দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩৫ বছর কাজ করেছেন তিনি। চার বছর আগে অবসর নেওয়ার পর থেকে পেনশনের টাকা পাননি তিনি। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাবে তাকে বারবার বাংলাদেশের শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) যেতে হয়েছে।

স্ত্রী ও মেয়ের চিকিৎসা সংকট

নজরুল ইসলামের অর্ধপাকা টিনের ঘরে স্ত্রী তোহরা খাতুন ও মেয়ে রুমা খাতুন শয্যাশায়ী ছিলেন। স্ত্রী তোহরা ছয় মাস ধরে শরীরের মাংস পচন রোগে ভুগছিলেন, আর মেয়ে রুমা মানসিক ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার খরচ যোগাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোটাছুটি করতে হয়েছে নজরুলকে। পেনশনের টাকা না পাওয়ায় স্ত্রীর চিকিৎসা বন্ধ ছিল।

সহযোগিতার আশ্বাস, কিন্তু কার্যকর না হওয়া

বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও খানপুর দাখিল মাদরাসার সভাপতি মো. সবদুল হোসেন খান নজরুল ইসলামের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান। যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন জানান, মাদরাসার বিষয়গুলো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেখাশোনা করেন। বাঘারপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশিকুজ্জামান জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিষয়টি নিয়ে তাদের কিছুই করার নেই। ঢাকায় কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করতে হবে।

নজরুল ইসলামের বর্ণনা

১৯৮২ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন নজরুল ইসলাম। ২০২০ সালের ২১ জুন অবসর গ্রহণ করেন তিনি। কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পেলেও পেনশনের টাকা আজও পাননি। অর্থের অভাবে স্ত্রী ও মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ ছিল। তিন হাজার টাকা বেতনে এনজিওতে চাকরি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। ঢাকায় যাওয়ার অর্থও তার নেই।

আকুতি ও সহায়তার অনুরোধ

নজরুল ইসলাম সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি জানান, তার অনেক ছাত্র ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হলেও কেউ তার খোঁজ নেয়নি। ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের জীবন দশার কথা বললেও কেউ সহযোগিতা করেনি।